তানজিলা আক্তার মাসুমা, ইডেন কলেজ প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর নিউ মার্কেটে কেনাকাটার উন্মাদনা তুঙ্গে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ঢল নেমেছে মার্কেটজুড়ে। পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক, জুতা, কসমেটিকস, পারফিউমসহ নানা আনুষঙ্গিক সামগ্রী কিনতে উপচে পড়া ভিড় জমেছে নিউ মার্কেটের প্রতিটি গলিতে।
কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা, ভোগান্তিও কম নয়: নিউ মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা বেশিরভাগ ক্রেতাই বলছেন, ঈদের বাজার করতে নিউ মার্কেটে আসাটা যেন একটা ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। এক ক্রেতা বলেন, “শপিংমলে অনেক দাম বেশি, কিন্তু নিউ মার্কেটে দাম কিছুটা কম। এখানে দর-কষাকষির সুযোগও থাকে।” তবে প্রচণ্ড ভিড় ও গরমে হাঁসফাঁস করতে হচ্ছে অনেককে।
বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ফ্যাশন হাউস ও কসমেটিকসের দোকানগুলোতে। ঈদের সাজগোজের জন্য নারীদের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে গয়নাগাটি ও কসমেটিকসের দোকানগুলোতে। এক কলেজছাত্রী জানান, “নিউ মার্কেটে না এলে ঈদের কেনাকাটা যেন অপূর্ণ থেকে যায়। এখানকার কালেকশনও অনেক ভালো।”
তবে, কিছু ক্রেতার অভিযোগ, এবারের ঈদ বাজারে দাম একটু বেশি। একজন চাকরিজীবী ক্রেতা বলেন, “গত বছরের তুলনায় দাম বেশ বেড়েছে। যেটা আগে ৫০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটাই ৭০০-৮০০ টাকা চাচ্ছে।”
বিক্রেতাদের মুখে হাসি, ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা:এবারের ঈদ বাজার নিয়ে বেশ খুশি নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ক্রেতাদের আনাগোনা বেশি। এক পোশাক ব্যবসায়ী জানান, “গত দুই-তিন বছর করোনার পর ব্যবসা তেমন ভালো যাচ্ছিল না। এবার মনে হচ্ছে ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া যাবে।”
বিশেষ করে দেশীয় পোশাকের দোকানগুলোতে প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। পাঞ্জাবি, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, থ্রি-পিস, কুর্তি ও টি-শার্টের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যানজট নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ:নিউ মার্কেটের এই বিশাল ভিড় সামলাতে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে পুলিশ ও র্যাবের অতিরিক্ত সদস্যরা। বিশেষ করে চুরি ও পকেটমারের সমস্যা এড়াতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও মোবাইল পেট্রোলিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তবে যানজটের কারণে অনেকেই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নিউ মার্কেট, আজিমপুর, নীলক্ষেত ও শাহবাগ এলাকার রাস্তাগুলোতে যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে অনেককে।
এক রিকশাচালক বলেন, “নিউ মার্কেটের রাস্তায় এত মানুষ আর গাড়ি যে রিকশা চালানোই যাচ্ছে না।”
শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ভিড় আরও বাড়বে:ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসবে, ভিড় তত বাড়বে। বিশেষ করে ঈদের আগের দু’দিন রাত পর্যন্ত নিউ মার্কেটে তিল ধারণের জায়গা থাকবে না বলে মনে করছেন অনেকেই।
সব মিলিয়ে, ঢাকার নিউ মার্কেট এখন ঈদের উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। উৎসবের আমেজ আর কেনাকাটার আনন্দে ভাসছে সবাই!
Discover more at Max-Zero
Powered by Max-Zero
Leave a Reply