আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় নিহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি। এতে উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৩৯ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৯১ হাজার ফিলিস্তিনি। গত ২৮ জুলাই এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের চলমান হামলায় আরও ৬৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গেল বছরের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৩২৪ জন। তথ্যটি নিশ্চত করেছে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান এই হামলায় আরও অন্তত ৯০ হাজার ৮৩০ জন ব্যক্তিও আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর করা তিনটি ‘গণহত্যায়’ ৬৬ জন নিহত এবং ২৪১ জন আহত হয়েছেন। এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় এখনও আটকা পড়ে আছেন বহু মানুষ। কারণ উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ধারণা, গাজা উপত্যকায় ধ্বংস হওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। প্রতিশোধ হিসেবে ওই দিন থেকেই গাজায় বিরামহীন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসনের কারণে বারবার ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন গাজার বাসিন্দারা। বোমার আঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এ উপত্যকার বেশির ভাগ। ফিলিস্তিনিরা বলছেন, ইসরায়েলি বোমা থেকে কোনো স্থানই নিরাপদ নয়।
এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এ ছাড়া অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে।
Discover more at Max-Zero
Powered by Max-Zero
Leave a Reply